৭৮৫ কোটি টাকার সঞ্চিতি সংরক্ষণ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স

ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফাইন্যান্স লিমিটেড ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে ৭৮৪ কোটি ৬৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করেছে।

ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফাইন্যান্স লিমিটেড ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে ৭৮৪ কোটি ৬৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করেছে। চলমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝেও আর্থিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।

ভবিষ্যৎ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৌশল হিসেবে কোম্পানিটি কোনো রেগুলেটরি ছাড় না নিয়েই সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ, লিজ ও বিনিয়োগের বিপরীতে পূর্ণাঙ্গ প্রভিশনিং সম্পন্ন করেছে। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের শ্রেণীকৃত ঋণ (এনপিএল) হার ১১ দশমিক ২০ থেকে কমে ৯ দশমিক ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে কোম্পানিটি প্রভিশন কভারেজ রেশিও ৭৮৬ দশমিক ৯৩ শতাংশে উন্নীত করেছে।

সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটি ৭৮৪ কোটি ৬৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা প্রভিশন বরাদ্দ এবং ১২৩ কোটি ৩০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ইন্টারেস্ট সাসপেন্সে স্থানান্তর করেছে। ফলে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের একীভূত কর-পরবর্তী নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৭৯৩ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার টাকায়, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১০৪ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। লোকসান সত্ত্বেও এ পদক্ষেপ ভবিষ্যতের জন্য একটি টেকসই, স্থিতিশীল ও পুনরুদ্ধারযোগ্য ভিত্তি গড়ে তুলবে।

১৭ এপ্রিল কোম্পানিটির পর্ষদ সভায় ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটির গুণগত সম্পদ উন্নয়ন, পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণ ও আদায় কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর আওতায় শক্তিশালী ক্রেডিট রিস্ক কন্ট্রোল, এসএমই, রিটেইল ও শরিয়াহভিত্তিক অর্থায়নের সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

আদায় কার্যক্রমে গতি আনতে আইনি ব্যবস্থা, গ্রাহকদের সঙ্গে আলোচনা, আদালতের বাইরের নিষ্পত্তি এবং তৃতীয় পক্ষের কালেকশন পার্টনারদের সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে। স্বল্পমেয়াদে এ সাহসী প্রভিশনিংয়ের ফলে মূলধন ও ইকুইটির ওপর চাপ সৃষ্টি হলেও তারল্য ঠিক রেখে অর্থ পুনরুদ্ধার, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী, টেকসই ও আর্থিক ভিত্তি পুনর্গঠনে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪১ টাকা ৬১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৬০ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ৫ পয়সায়।

এদিকে ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে আগামী ২৯ মে বেলা ১১টায় ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) আহ্বান করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ মে।

২০০৭ সালে পাঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের অনুমোদিত মূলধন ৬০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৮৮ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

রিজার্ভের পরিমাণ ২৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৮ কোটি ৮২ লাখ ৩৬ হাজার ২৬৭। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ৫১ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ১৬ দশমিক ৫২ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও ৫২ দশমিক ৯৭ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

আরও